মুসলমানদের গৌরবের যুগে একসময় আলেমদের হাতের কাজ শেষ হয়ে যায়। রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী যুদ্ধ করতো, তাই তাদের জিহাদ করা লাগতো না। রাষ্ট্রের নির্ধারিত কাজী ও আমীর-উমারারা নামাজ পড়াতো, বিচার করতো, ফলে এখানেও তাদের কোনো কাজ ছিল না। তখন তারা কাজ খুঁজতে থাকেন। একসময় কাজ পেয়েও যান। 'মুনাযারা' বা বিতর্ক। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জটিল সব ইস্যু সামনে এনে এরপর দিনের পর দিন, মাসের পর মাস সেটা নিয়ে মুনাযারা করতেন, লেখালেখি করতেন। এভাবে সময় চলে যেতো।
যেমন কেউ যদি তার বউকে বলে, 'তুমি চাঁদের চেয়ে সুন্দর না হলে তালাক'- তাহলে তালাক হবে কি না। জান্নাতে গিয়ে নারীরা আল্লাহকে দেখবে কি না, দেখলে পর্দার বিধানের কী হবে!
মূসা (আ.) যখন আল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছেন, তিনি যে আওয়াজ শুনেছেন সেটা কি সরাসরি আল্লাহর আওয়াজ ছিল নাকি গাছের ভেতরে সৃষ্ট আওয়াজ?
ঈসা (আ.) শেষ যুগে যখন আসবেন, তখন কোন্ মাযহাব মানবেন হানাফী নাকি শাফেয়ী? নাকি তিনি লা-মাযহাবী হবেন?
মাহদী যখন আসবেন তখন তার অনুসারী কারা হবে- ফুকাহা তথা আলেমরা নাকি মারেফাতপন্থী সূফিরা?
এমন নানা অবান্তর মাসআলা নিয়ে আলেমরা শত শত বছর সময় পার করে দেন। এখন যখন উম্মাহ ঈমান ও কুফরের মুখে দোদুল্যমান, ইসলাম ও সেক্যুলারিজম থেকে যে কোনো একটা বেছে নিতে বাধ্য- তখনও কিছু আলেম সহস্র বছর পুরনো যুগে আছেন। মনে হচ্ছে, এখনও খিলাফত রয়ে গেছে। আলেমগণের এখনও করার মতো কোনো কাজ নেই।
ভাই! কানা দাজ্জাল না এলেও দাজ্জালিয়্যাতের ভারে পৃথিবী ক্লান্ত। তাই আলিম হিসেবে এখন আপনার মূল দায়িত্ব হলো- ইসলাম প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করা। মাহদী ও ঈসা (আ.) ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যই আসবেন; মতাদর্শ নয়। আলিমগণ এদিকে মনোযোগী হোন। অর্থহীন বিতর্ক বর্জন করুন।
