বাঙলাভাষায় অরিয়েন্টালিজমের মোকাবেলায় 'প্রাচ্যবাদ ও ইসলাম' নামক নতুন বই
বিশিষ্ট আলিম কবি ও গবেষক মুসা আল হাফিজ এর 'প্রাচ্যবিদদের দাঁতের দাগ' বইটি যখন প্রকাশিত হয় তখন এদেশের ধর্মীয় পরিমণ্ডলে প্রাচ্যবাদ একটি অভিনব বিষয়বস্তু। বলা যায়, তাঁর হাত ধরেই এদেশে প্রাচ্যবাদের অভিঘাত মোকাবেলার মৌলিক সূচনা এবং বিকশিত হয়েছে—একথা স্বীকার করবেন সকলেই।
এরই ধারাবাহিকতায় মুসা আল হাফিজ প্রতিষ্ঠিত উচ্চতর ইসলামি গবেষণাকেন্দ্র 'মাহাদুল ফিকরি ওয়াদদিরাসাতিল ইসলামিয়া'র উদ্যোগে একটি বৃহত্তর প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। নিপুণ পরিকল্পনা ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে 'প্রাচ্যবাদ ও ইসলাম' আমাদেরকে তিনি উপহার দেন। বইয়ের সম্পাদকীয়তে তিনি লেখেন:
"বহু শতাব্দীর ধারাবাহিকতায় প্রাচ্যবাদী বয়ান গভীর ও শক্তিমান প্রভাব তৈরি করেছে দুনিয়াজুড়ে, যা ইসলামকে বুঝা ও দেখার এক বিকৃত ধারাবাহিকতার মুখোমুখি করে আমাদের; যার মোকাবেলা একটি অনস্বীকার্য দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় ইসলামের জায়গা থেকে। মুসলিম চিন্তাধারায় বুদ্ধিবৃত্তিক ও চিন্তানৈতিক যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় এ কর্তব্য উম্মাহের মসিধারী উলামার মাথায় নোটিশের মতো ঝুলছে।
মা'হাদুল ফিকরি ওয়াদ-দিরাসাতিল ইসলামিয়া প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই চিন্তার ময়দানে জরুরি কর্তব্য আঞ্জামে নিজেকে নিবেদিত রেখেছে। দাওয়াহ ও গবেষণার ধারায় জ্ঞানতাত্ত্বিক, চিন্তানৈতিক ও ময়দানি কাজের সমন্বয় মা'হাদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সৃষ্টিতেও এর স্বাক্ষর প্রত্যাশিত। মা হাদের শিক্ষার্থীদের রচনায় ইসলাম ও প্রাচ্যতত্ত্বের পর্যালোচনামূলক এ সংকলন সেই ধারার এক দরকারি পদক্ষেপ।
বাংলাভাষায় গবেষণামূলক অবলোকনে ইসলামি চিন্তার জায়গা থেকে প্রাচ্যবাদ মোকাবেলা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। এ পথে এ সংকলন একটি পথিকৃৎ ও অগ্রবর্তী দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে, ইনশাআল্লাহ।
এ সংকলনে কুরআন, হাদিস, ফিকহ, তাসাউফ, সিরাত, ইসলামের ইতিহাস ইত্যাদি প্রসঙ্গে প্রাচ্যতাত্ত্বিক বিভ্রান্তি অপনোদনের প্রয়াস রয়েছে, যা প্রাচ্যবাদ-প্রভাবিত পাঠকমহলে সত্যতা ও যথার্থতা উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বলে আশা করা যায়।"
