হযরত মুগিরা ইবনে শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু হযরত উমর রা. এর খেলাফতকালে বাহরাইনের গভর্নর ছিলেন। সেখানকার কিছু দুষ্ট লোক হযরত মুগিরাকে পছন্দ করত না। তাই তারা আমিরুল মুমিনিনের দরবারে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করল। আমিরুল মুমিনিন তাকে দারুল খিলাফত মদীনায় ডাকেন।
তখন বাহরাইনের ওই দুষ্ট লোকেরা মিলে এক লাখ দিরহাম একত্রিত করে কয়েকজন লোককে মদীনায় পাঠায়। তারা তাদের গভর্নর হযরত মুগিরার বিরুদ্ধে খেয়ানতের অভিযোগ করবে। হযরত উমরের দরবরারে বিচার বসেছে। একদিকে হযরত মুগিরা বসা, অন্য পাশে অভিযোগকারীরা।
তারা আমিরুল মুমিনিনের সামনে এক লাখ দিরহাম পেশ করে বলল, এগুলো হযরত মুগিরা আমাদের কাছে দিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তিনি খেয়ানত করেছেন, জমা দেননি।
এ বিষয়ে আমিরুল মুমিনিন হযরত মুগিরাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি তো দুই লাখ দিরহাম তাদের কাছে রেখেছিলাম, এরা এক লাখ দিরহাম নিজেরা মেরে দিয়েছে, এখন এক লাখ দিরহাম নিয়ে হাজির হয়েছে। আরেক লাখ দিরহাম পেশ করতে বলেন।
এবার অভিযোগকারীরা পড়ে গেল মহা সমস্যায়। তারা বাকি এক লাখ দিনার পাবে কোথায়?
কোনো উপায় না পেয়ে তারা মূল ঘটনা স্বীকার করল যে, আমার কয়েকজন হযরত মুগিরার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছি। আমরা কয়েকজন মিলে এক লাখ দিরহাম একত্রিত করে আপনার কাছে নিয়ে এসেছি। যেন অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে বাহরাইনের গভর্নরের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
লোকগুলো চলে যাওয়ার পর হযরত উমর হযরত মুগিরাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি দুই লাখ দিরহামের কথা বললে কেন? তিনি বললেন, এরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে তা আমি টের পেয়েছি।
তারা এক লাখ দিরহাম একত্রিত করে নিয়ে এসেছে, সাক্ষীও সঙ্গে আছে, তাই আপনি তাদের কথা বিশ্বাস করবেন। কিন্তু তারা আরেক লাখ দিরহাম যোগাড় করতে পারবে না। তাই তাদের মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য আমি দুই লাখ দিরহামের কথা স্বীকার করেছি! হযরত উমর রা. তার বিচক্ষণতায় মুগ্ধ হয়ে ধন্যবাদ জানান।
হযরত মুগিরা ইবনে শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু অত্যন্ত বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান ছিলেন।
...
প্রশ্ন : সাহাবায়ে কেরামের মাঝে সবচেয়ে বেশি বিয়ে করেছেন কে?
উত্তর : হযরত মুগিরা ইবনে শুবা। ৭০টি বিয়ে করেছিলেন।
[বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৮/৪৯]