আমরা যদি মনে করি যে, আকাশের তারকার প্রভাব আছে যে, এটি এখানে গেলে বৃষ্টি হয়, ওখানে গেলে এই হয় সেই হয় ইত্যাদি তাহলে শির্ক হয়ে যাবে। আর যদি মনে করে যে, এটি একটা কারণ তাহলে শির্কে আসগর হবে।
সালাফে সালেহীন সবসময় একটি উদাহরণ দিতেন যে, যদি না কুকুর ঘেউ ঘেউ করতো তাহলে চোর ঢুকতো না। যদি মনে করা হয় যে, কুকুরের ঘেউ ঘেউ বাঁচিয়েছে তাহলে শির্কে আকবর হবে।
আর যদি মনে করা হয় যে, কুকুরের ঘেউ ঘেউ একটি কারণ তাহলে সেটা শির্কে আসগর হবে। যদি মনে করা হয় যে, তাবিজ নিজে নিজে উপকার দেয় তাহলে শির্কে আকবর হয়ে যাবে, আর যদি মনে করা হয় এটি একটি কারণ তাহলে শির্কে আসগর হবে।
আর তাবিজটি যদি আল্লাহর কালাম ছাড়া অন্য কোনো কিছু দিয়ে হয় তাহলে সেটা আকবর হয়ে যাবে। আর যদি মনে করে যে, আল্লাহর কালাম দিয়ে দিয়েছি আল্লাহই ভালো করবেন তাহলে সেটা হারাম হবে। তাবিজের ওপর নির্ভর করলে সেটা আকবর হবে।
এজন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে গলায় তাবিজ লটকিয়ে আসলেন একজন ইসলাম গ্রহণ করার জন্য। তিনি তাকে বায়‘আত গ্রহণ করেননি যতক্ষণ না সে গলার তাবিজ খুলে ফেলল।
কেউ কেউ গলায় কড়ি লাগায় এগুলো শির্কে আসগরও হতে পারে আবার আকবরও হতে পারে। যদি মনে করে যে, এটা কারণ তাহলে শির্কে আসগর আর যদি মনে করে কারণ নয় এটাই কাজ করে তাহলে সেটা শির্কে আকবর হবে।
অনুরূপভাবে আপনি যদি বলেন, ‘উপরে আল্লাহ আর নিচে আপনি’ তাহলে এটা শির্কে আসগর হয়ে যাবে। যদি মনে করেন যে, প্রভাব আছে তাহলে এটা আকবর হয়ে অনুরূপভাবে আপনি যদি মনে করেন যে, ‘আপনি যা চেয়েছেন আর আল্লাহ যা চেয়েছেন’ তাহলে সেটি শির্কে আসগর হয়ে যাবে। যদি মনে করেন যে, তার চাওয়ার কোনো প্রভাব আছে তাহলে সেটি শির্কে আকবার হয়ে যাবে। আর যদি মনে করেন যে, তার চাওয়াটা কারণ তাহলে শির্কে আসগর হয়ে যাবে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, কখনও কখনও মানুষ কথার দ্বারা শির্ক করছে। আবার কখনও কখনও কর্মকাণ্ডে শির্ক করে। কর্মকাণ্ডে শির্ক হচ্ছে- যেমন কখনো কখনো আপনি বলেন যে, গোলাম নবী, গোলাম রাসূল, আবদুন্নবী, আব্দুর রাসূল। কেউ কেউ নিজের ছেলের নাম রেখেছেন গোলাম মহিউদ্দিন। গোলাম মহিউদ্দিন কে জানেন?
আব্দুল কাদের জিলানীর লকব হচ্ছে গোলাম মহিউদ্দিন। এর অর্থ হচ্ছে আব্দুল কাদের জিলানীর গোলাম। তার দাস হওয়া কি জায়েয আছে? নিঃসন্দেহে এটি শির্ক।
কখনও কখনও চোর ধরার জন্য আঁকাঝুঁকি করে, বিভিন্ন রকমের বাটি চালান দেয় তাহলে এটি শির্ক হবে। যদি মনে করে যে, এরা এভাবে জানতে পারে তাহলে শির্কে আকবর হবে।
সুতরাং শির্কে আসগর এবং আকবরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে একটা আরেকটাকে টেনে আনে। কিছু কিছু জিনিস আছে যা অন্তর দ্বারা করে থাকে যেমন লোক দেখানো সালাত পড়ছে। সে মনে মনে বলছে যে, সালাত পড়লে মানুষ আমাকে ভালো বলবে তাহলে সেটা শির্ক হয়ে যাবে। শির্কে আসগর এটা আকবরের একটা বড় মাধ্যম হিসেবে থাকে।
অতএব, ছোট শির্কগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ। এগুলোর কারণে কখনও কখনও সে জাহান্নাম থেকে মুক্ত নাও হবে পারে এই ভয়ের মধ্যে তাকে থাকে থাকতে হয়। সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম যে, মানুষ এভাবে শির্ক করে।
বইঃ আকীদার চারটি মৌলিক পরিভাষা
লেখকঃ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
