তারা যুক্তি দিচ্ছে, তারা গণতন্ত্রকে জায়েয বলে না; জাস্ট নির্বাচনকে জায়েয বলে। আচ্ছা, নির্বাচনটা কিসের নির্বাচন?
ভাগ্যগুণে পার্লামেন্টারি নির্বাচনে যদি তারা কোনোদিন কোনো আসনে জিতেও যায়, তাহলে তারা কী দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবে?
তখন কি তারা পার্লামেন্ট মেম্বার তথা আইনপ্রণেতা হবে না? সংবিধান রক্ষার শপথ করবে না?
পরবর্তীতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গৃহীত প্রতিটা বৈধ-অবৈধ রায় মেনে নিতে বাধ্য থাকবে না?
একদিকে সংসদীয় নির্বাচন করবে, আরেকদিকে বলবে গণতন্ত্র করি না, এটা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কী!
বেচারারা বলে, গণতন্ত্র হারাম হলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে থাকেন কেন?
অথচ একটাবার চিন্তা করে না, রাসুলুল্লাহ সা. নিজেই তৎকালীন জাহিলি মক্কায় ৫৩ বছর থেকেছিলেন। বিধর্মীর ঘরে অবস্থান আর বিধর্ম মেনে নেওয়া এক বিষয় না।
মুসা আ. নবুওয়াতের আগে সিংহভাগ সময় কার ঘরে থাকলেন?
কার ডালভাত খেয়ে বেড়ে উঠলেন?
ইবরাহিম আ.-ও কি আজরের তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হননি?
রাসুলুল্লাহ সা.-ও কি আবু তালিবের ছায়ায় থাকেননি?
তায়েফ থেকে ফেরার সময়ও একজন কাফিরের আশ্রয় গ্রহণ করেননি?
পুরো জমিন আল্লাহর আর মুমিনরা আল্লাহর বান্দা। সুতরাং নিজেদের দীনদারি হেফাজতে রেখে তারা যেখানে ইচ্ছা থাকতে পারে। কিন্তু তাদের রূপ একই থাকে। মক্কায় থাকলে মুশরিক, হাবাশায় গেলে খ্রিষ্টান আর মদিনায় গেলে ইহুদি হয়ে যায় না। অথচ এই একই অজুহাতে এরা কুফরকে ইমান ও শিরককে তাওহিদ সাব্যস্ত করতে চায়। সেলুকাস!
বেচারারা বলে, আব্বাসি কিয়াম করে বলে সে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বলার অধিকার রাখে না। আচ্ছা, সৈয়দ ইসহাক সাহেবের বইপত্রে শুধু তো বিদআত না, স্পষ্ট শিরকি কথাবার্তা আছে। তাহলে তার ধারা কীভাবে এই দেশে সুফি সাজার অধিকার রাখে?
তাদের শাজারা ও সিলসিলার পুরোনো বুজুর্গদের মধ্যে ওয়াহদাতুল উজুদের কঠিন প্রবক্তাও তো আছেন। আহমদ শহিদ রহ. থেকে আসা সিলসিলাগুলোর মধ্যে দেওবন্দিরা বাদে অন্য অনেক ধারাই মিলাদ-কিয়াম করে।
সায়্যিদুত তায়িফা হাজি ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মাক্কি রাহ.-এর ব্যাপারেও তো মিলাদ-কিয়ামের কথা প্রচলিত আছে। অন্য সবার ক্ষেত্রে এ বিষয়টা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও এই এক ক্ষেত্রে কেমন যেন ওদের হিদায়াত এখানে এসে আটকে আছে। ওদের দাবি, আমি নাকি কখনো মিলাদ-কিয়াম নিয়ে বলিনি; তাহলে গণতন্ত্র নিয়ে বলি কেন?
অথচ আমার অফিসিয়াল চ্যানেলে এ নিয়ে একাধিক বয়ান আছে। চামচিকা আলো না দেখলে এর দায় কি সূর্যের কাঁধে বর্তাবে?
বেচারারা আজ গণতন্ত্র ছেড়ে দেক, আমি ইনশাআল্লাহ সবার আগে ওদের নেতার পা ধুয়ে দেবো। ওদের সাথে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই। শুধু গণতন্ত্রের বিরোধিতা করি বলে ওরা কাফির, মুনাফিক, দালাল থেকে শুরু করে কত গালি যে দিলো।
এমনকি কিছু অথর্ব তো আকাবিরবিরোধী বলতে শুরু করল। অথচ এই কারণে আমরা যদি আকাবিরবিরোধী হই, তাহলে ওদের অবস্থানের কারণে ওদেরকে তো আল্লাহবিরোধী ও রাসুলবিরোধী বলতে হবে। আর যদি ওরা এই ট্যাগ নিতে রাজি না থাকে, তাহলে আমাদেরকেও তো ট্যাগ দেওয়া উচিত নয়।
যারা কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট দলিল মানতে পারে না, কুযুক্তি দিয়ে কুফর-শিরককে বৈধ করতে চায়, তাদের কিছু বলে লাভ নেই। এদের আরেক দাবি হলো, শুধু আমাদের নিয়ে বলে কেন; অন্যদের নিয়ে বলে না কেন?
তোমরা গ্যারান্টি দাও, অন্যদের নিয়ে বললে তোমরাও শুধরে যাব, তাহলে আজই বলা হবে ইনশাআল্লাহ। তাছাড়া যদি এটা বুঝতেই পারো যে, ব্যাপারটা ভুল, তাহলে হিদায়াত গ্রহণের জন্য কাকে নিয়ে বলা হলো আর কাকে নিয়ে বলা হলো না, এ নিয়ে মাথাব্যথার দরকার কী।
এগুলো ইহুদি ও মক্কার মুশরিকদের যুক্তির মতো। আবার কেউ বলবে, আপনি ইসলামের জন্য কী করেছেন তা আগে দেখান। কথা হলো, যদি ধরেও নিই, আমি ইসলামের জন্য কোনোদিন কিছুই করিনি, এই অজুহাতে আপনার জন্য কুফরকে ইসলাম বলে চালিয়ে দেওয়া বৈধ হবে?