ইসলামী দলগুলো ক্ষমতায় গেলে সংবিধানের আইনি উৎসকে গণতন্ত্র থেকে পরিবর্তন করে ইসলামী ‘ল’কে এর আইনি উৎস বানাবেন, নিয়্যাতের এই অবস্থার কারণে গণতান্ত্রিক রাজনীতি করার পরও তাদের তাকফীর করার সুযোগতো নাই বরং প্রশ্নই উঠেনা।
কিন্তু বড় একটি সুযোগ পেতে, তারা, যে বিদ্যমানতাকে মেনে নিয়েছেন; একে কেন পরিবর্তন করতে হবে এর আকিদাগত সংকট নিয়ে তাঁরা সাধারণত কথা বলেন না।
এমনকি তারা যে, এই জাতিবাদী গণতান্ত্রিকধারা খারাপ হওয়ার পরও ৭০, ৮০ বছর বা পুরো জীবনের জন্য! একটি সাময়িক সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করছেন কখনই তাদের বয়ান-বক্তব্যে তা স্পষ্ট করেন না। হ্যাঁ কখনো কখনো তারা এর জাগতিক জুলম নিয়ে কথা বলেন বটে, তাও সেক্যুলার আন্দাজে।
গত ৪০ বছরে গণতান্ত্রিক ধারায় ইসলামী রাজনৈতিক আন্দোলনগুলোর বিশ্বাস ও আকিদার রুট লেভেলে বেশকিছু পরিবর্তন এসেছে । আমি বলবো আসতে বাধ্য হয়েছে। এক সময় সাময়িক সুযোগ হিসেবে যে পন্থাকে তারা গ্রহণ করেছেন ফিকহি উসুলের আলোকে, এখন তারা নিজেরাই বেশ সংশয়ে আছেন এবং সচেতনভাবে সংশয় ছড়াচ্ছেন যে, এই পন্থা আসলে ইসলাম বিরোধী নয়।
বরং এটা একটা নেজাম আর নেজামের ক্ষেত্রে ইসলামে ছাড় আছে। খেয়াল করুন যে, গন্তব্যের এই পরিবর্তন তাদের সেই কমিটেটকে বিলীন করে দিচ্ছে; ইসলামী আইন ও ফিকহের সাথে যার সম্পর্ক। তাই এখন বক্তব্য এসে দাঁড়িয়েছে- ইনসাফের রাষ্ট্র হলেই হবে, আইনী উৎস পরিবর্তনের প্রয়োজনীতার এখন আর প্রয়োজন নেই।
তৃতীয় স্তরে এসে পরিবর্তনটা আরো এগিয়েছে। সেদিন দেশের এক বড় মারকাযের বড় হুজুরের বড় মুহাজারায় বড় করে লেখা দেখেছি; আমরা যখন বলি এই ঘরটি আমার তখন এর অর্থ এই নয় যে, এ কথার দ্বারা আমি আমার ঘরে আল্লাহর মালিকানা অস্বীকার করছি। বরং এটি একটি কথার কথা। যেমন মুখতাসারুল মাআনি, কিতাবে তোমরা পড়েছো- أنبت الربيع البقل। ঠিক তেমনি গণতন্ত্রও অনেকটা এমন। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব জনগণের এর অর্থ এই নয় যে, এখানে আল্লাহর হাকিমিয়্যাতকে অস্বীকার করা হচ্ছে।
বরং এটাও একটা কথার কথা। এই বিষয়ে বেশ কিছু কথা আছে যা এখানে বলার উপযোগি না। সবচে মজার ব্যাপার হচ্ছে- ঘরের মালিকানা আর গণতন্ত্রের রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের মাঝে যে ফারাক আছে এই ব্যপারে বছর দশেক আগের হযরতের মুহাজারা আছে। আমার বুঝতে ভুল হচ্ছে না হযরত ভুলে গেলেন; আল্লাহ মালুম।
যে বিমানের গন্তব্য দুবাই, আপনি যতই নিয়্যত করেন তাতে আমেরিকা যাবেন, কোন লাভ হবে না। নিয়্যাতের এই অবস্থাকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন কি না তা আল্লাহই ভালো জানেন। কিন্তু গন্তব্যের পরিবর্তন ,পরিবর্তনের ধারা যে আপনার ও আপনার সহযোগি-অনুরাগী ও সাধারণ মুসলমানের ঈমানের ক্ষতি করছে, তা ধরিয়ে দিলে যদি আপনি ভুল বুঝেন, বা দালাল বলেন তাহলে কী করার আছে?।
আল্লাহ বলেন-
فَإِنَّمَا عَلَيْكَ الْبَلَاغُ وَعَلَيْنَا الْحِسَابُ
আপনার দায়িত্ব তো পৌছে দেয়া এবং আমার দায়িত্ব হিসাব নেয়া। (সুরা রা’দ-৪০)