কয়েকদিন যাবত পোষাকের স্বাধীনতা নিয়ে অনলাইনে বেশ আলোচনা-সামালোচনা দেখছি। অনেকে পোষাকের স্বাধীনতার নামে খোলামেলা পোষাক পরিধানের দাবি করছেন ---যা কখনোই একটা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে কাম্য করা যায়না।
কেননা, পোষাকের বিষয়টি মোটেও ছোটখাট কোন বিষয় নয়। পরিহিত পোষাক যদি ইসলাম সমর্থিত না হয় তাহলে শুধুমাত্র এই পোষাকই একজন নারীর জাহান্নামে যাওয়ার কারন হবে, শুধুমাত্র পোষাকের কারনেই পুরুষও জাহান্নামে যাবে।
নিম্নে নারী ও পুরুষের জাহান্নামি হওয়া পোষাকের বিবরণ পেশ করা হলো:
❏ মেয়েদের জাহান্নমি হওয়ার পোষাক:
হাদিসে এসেছে, রাসূল (ﷺ)বলেছেন,
صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا، قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ، وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلَاتٌ مَائِلَاتٌ، رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ، لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ، وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا، وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا»
“দুই শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামের অধিবাসী যাদেরকে আমি দেখিনি, তারা ভবিষ্যতে আসবে প্রথম শ্রেণী অত্যাচারীর দল যাদের সঙ্গে থাকবে গরুর লেজের মত চাবুক যদ্ধারা তারা লোকদেরকে প্রহার করবে। আর দ্বিতীয় শ্রেণী হল সে নারীর দল যারা কাপড়তো পরিধান করবে কিন্তু তারা উলঙ্গ, নিজেরা অন্যদের প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং অন্যদেরকেও তাদের প্রতি আকৃষ্ট করবে, যাদের মস্তক (খোপা বাধার কারণে) উটের হেলে যাওয়া কুঁজের মত হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এমনকি জান্নাতের গন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ এত এত দূরবর্তী স্থান থেকেও পাওয়া যাবে।”
(অর্থাৎ- যে সমস্ত নারীরা বেপর্দাশীল হয়ে সৌন্দর্য প্রদর্শন করে রাস্তায় চলাফেরা করে তারাই মূলত জাহান্নামি হওয়ার পোষাক পরিধান করে।)
[সহিহ মুসলিম; আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ, হাদিস নং ১৩২৬]
❏ ছেলেদের জাহান্নামি হওয়ার পোষাক:
রাসূল (ﷺ) বলেছেন,
ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ، وَلَا يُزَكِّيهِمْ، وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ» فَقَرَأَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ أَبُو ذَرٍّ: خَابُوا وَخَسِرُوا، قَالَ: «الْمُسْبِلُ إِزَارَهُ، وَالْمُنَفِّقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْكَاذِبِ، وَالْمَنَّانُ عَطَاءَهُ»
"এমন তিন প্রকার লোক রয়েছে, যাদের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা’আলা কথা বলবেন না, তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না; আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি। তার মধ্যে প্রথম ব্যক্তিটিই হচ্ছে, الْمُسْبِلُ إِزَارَهُ، 'যে পুরুষ টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করে।" [সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৪৪৫৮]
অপর হাদিসে এসেছে,
مَا أَسْفَلَ مِنَ الكَعْبَيْنِ مِنَ الإِزَارِ فَفِي النَّارِ»
"টাখনুর নিচে কাপড়ের যেটুকু থাকবে তা জাহান্নামে যাবে।" (অর্থাৎ- যে পুরুষ টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করে সে জাহান্নামে যাবেই)
[সুনানে আন-নাসাঈ, হাদীস নং ৫৩৩০; মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ২০১৮০]
❏ নারী পুরুষের বেশ ধারনকারী, পুরুষ নারীর বেশ ধারনকারী:
আজকাল বীপরিত লিঙ্গের বেশ ধারন করার প্রবনতাও মুসলিম সমাজে বেড়ে যাচ্ছে। যেমন: অনেক পুরুষকে দেখাযায় লম্বা চুল, গলার চেইন, কানের দুল, হাতে চূড়ি বা ব্রেসলেট পড়ে, এগুলো সবই হচ্ছে মেয়েদের বৈশিষ্ট বা তাদের সাঁজ সরঞ্জামের জিনিস।
অথচ আধুনিকতার ছোয়ায় গা ভাসিয়ে দেওয়া বহু যুবকরাই আজকাল এগুলো ব্যবহার করে মেয়ে সাঁজে, বহু পুরুষকে দেখাযায়, দাড়ি সেভ করে ক্লিন হয়ে থাকে এটা পোষাকের অর্ন্তভুক্ত না হলেও এটাও নারীদের বেশ ধারন করার নামান্তর।
অপরদিকে গেন্জি, শার্ট-প্যান্ট পড়াটা হচ্ছে ছেলেদের পোষাক। অথচ ফ্যাশনের নামে বহু যুবতিরাই আজকাল গেন্জি, শার্ট-প্যান্ট পরিধান করে থাকে। রাসূল (ﷺ) এইসমস্ত ব্যক্তিদের উপর লানত তথা অভিশাপ বর্ষণ করেছেন।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, "রাসূল (ﷺ) ওইসমস্ত পুরুষদের উপর লা'নত করেছেন যারা নারীদের বেশ ধারন করে এবং ওইসমস্ত নারীদেরকেও লা'নত করেছেন যারা পুরুষের বেশ ধারন করে।"
[সহিহুল বুখারী, হাদিস: ৫৮৮৫]
সাহাবি আবু হুরায়রা (রাঃ)-থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, "রাসূল (ﷺ) অভিসম্পাৎ করেছেন ওইসমস্ত পুরুষকে যারা নারীদের পোষাক পরিধান করে এবং ওইসমস্ত নারীকে যারা পুরুষদের পোষাক পরিধান করে।"
[আবু দাউদ,হাদিস: ৪০৯৭]
রাসূল (ﷺ) আরো বলেছেন,
"যে সব নারী পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে এবং যে সব পুরুষ নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে, তারা আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।"
[সহীহুল জামে, হাদিস: ৪৫৩৩]
হে আল্লাহ! ধোঁকাগ্রস্থ ভাই ও বোনদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন, তাদেরকে ইসলামের ছায়াতলে ফিরে আসার তাওফ্বীক দান করুন। আমীন।
