সাহাবা-সালাফের বৈশিষ্ট্য ঠিক কী ছিল?

সাহাবা-সালাফের বৈশিষ্ট্য ঠিক কী ছিল?


ইবনে মাসউদ বলেন, সাহাবাদের মধ্যে আন্তরিক সততা ছিল সবচেয়ে  বেশী, তাদের ইলম ছিল সবচেয়ে গভীর, তাদের মধ্যে লৌকিকতার কোন বালাই ছিলো না, তাদের কর্মপন্থা ছিল সবচেয়ে বেশী সঠিক, স্বভাব-আচরণে তাদের সাথে অন্য কারো তুলনা হয় না। মূলত এই গুণগুলোই ছিল সাহাবা-সালাফদের সফলতার মূল রহস্য। দর্শন, বিজ্ঞান বা প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়ার ফলে মুসলমানরা পরাজিত হয়নি। মুসলমানরা পরাজিত হয়েছে সাহাবা-সালাফদের গুণাবলী হারিয়ে ফেলার প্রেক্ষিতে। 

তাতারদের থেকে মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনেক এগিয়ে ছিল। মুসলিম স্পেনের জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে তৎকালীন ইউরোপের কোন তুলনাই হতে পারে না। তবু তাতার-ইউরোপিয়ানদের কাছে মুসলমানরা পরাজিত হয়েছিল। আপনি যখন শিক্ষা-জ্ঞান-বিজ্ঞানকে উদ্দেশ্য ও কেন্দ্রবিন্দু বানানো শুরু করবেন, তখন আপনি ধীরে ধীরে শক্তি হারাবেন। 

টুলস ও আসবাব হিসেবে শিক্ষা-জ্ঞান-বিজ্ঞান অর্জনের কোন বিকল্প নেই। ফল কাটতে চাইলে অন্তরের স্বচ্ছতা দিয়ে কিছু হবে না, আপনার হাতে ছুরি থাকতে হবে। তবে আপনি যদি ছুরির পূজা শুরু করেন, ফল কাটার কথাই ভুলে যান, তবে ছুরিতে লাভ দূরে থাকুক, ক্ষতির আশংকাই বেশী। শিক্ষা-জ্ঞান-বিজ্ঞান-সার্টিফিকেট পূজা করা যাবে না, কাজে না লাগলে ছুড়ে ফেলে দিতেও দ্বিধা রাখা যাবে না।

শিক্ষা-ডিগ্রি-সার্টিফিকেট অর্জনের আগে পাত্রও তৈরি হতে হয়, রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা থাকতে হয়। ব্যক্তিগত আত্মশুদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা না থাকলে জ্ঞান-বিজ্ঞান-শিক্ষায় বিশেষ ফায়দা নেই। পাগল-সন্ত্রাসীর হাতে ছুরি থাকলে বিপদের আশঙ্কাই থাকবে বেশী।   

সাহাবা-সালাফরা যে পথে সফলতা অর্জন করেছেন, সেটাই হোক আমাদের আদর্শ, আমাদের চেষ্টা।

Read Also :

Getting Info...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.