আপনি যদি গুগলে এই প্রশ্ন সার্চ করেন, গুগল আপনাকে উত্তর দিবে, ইসলামের স্বর্ণযুগ ছিল আব্বাসি আমলে, যার ব্যাপ্তি দেড়শো থেকে ছয়শো হিজরি পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রচলিত ব্যাখ্যা মতে সাহাবা-তাবেয়ী-তাবে তাবেয়ীরা স্বর্ণযুগের সন্তান নন।
যেহেতু সালাফে সালেহীনের কেউই সাহিত্য-দর্শন-শিল্প-বিজ্ঞানে বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ ছিলেন না, তাই তারা পশ্চিমা দৃষ্টিকোণ থেকে সফলতার মাপকাঠি নন। ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের দৃষ্টান্ত-গল্প বলতে তারা দর্শন, প্রযুক্তি, শিল্পের কথা তুলে আনেন, তাই ইবনে মাসউদ, আলী ও মুয়াবিয়ার জায়গা দখল করে নেন ইবনে সিনা, ফারাবি ও ইবনে রুশদরা।
প্রশ্ন হচ্ছে, পশ্চিমা ব্যাখ্যায় ভুল কোথায়, সাহাবীরা কেন শ্রেষ্ঠ ছিলেন?
ধর্মীয় রুচি, ঈমানি চেতনা ও সামরিক বিজয়ের মাপকাঠিতে সাহাবা-সালাফের সাথে পরবর্তীরা কোনভাবেই তুলনীয় নন।
অত্যন্ত নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে দেখুন, সাহাবা-সালাফের চিন্তা ছিল কুরআন-সুনানের সারনির্যাস। তারা বিশেষায়িত পড়াশুনা করেননি, গবেষক হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করেননি, তবু তাদের চিন্তার দৃঢ়তা-প্রশস্ততার কোন তুলনা হয় না।
সালাফ-সাহাবারা সামাজিক ও সামরিক প্রেক্ষাপটে যে সফলতা দেখিয়েছেন, তার কোন তুলনা হয় না। আব্বাসি যুগেও মুসলমানরা ভূখণ্ড জয় করেছে, তবে সেই জয়গুলো ছিল সাহাবা-সালাফদের কাজের সম্প্রসারণ। ওমরের যুগেই পারস্য-রোমান সাম্রাজ্যের ভিত কেঁপে উঠেছিল। পরবর্তীরা শুধু বিজয়ের ধারা বজায় রেখেছেন।
সাহাবারা শুধু বিজয় অর্জন করেই থেমে থাকেননি, সামরিক বিজয় অনেকেই অর্জন করে। বিজয়-পরবর্তী সমাজ বিনির্মাণে সাহাবা-সালাফদের অবদানের কোন তুলনা হয় না। পশ্চিমা সামরিক বিজয়ের সাথে সাহাবা-সালাফদের ভূমিকাকে তুলনা করে দেখুন, পার্থক্য নিজেই ধরতে পারবেন। ভূমি জয় করা কঠিন, মন জয় করা তারচে' অনেকবেশী কঠিন।