রূপগঞ্জের কোনো একটি নিউজ দেখে আৎকে উঠলাম। একটি দম্পতি নিজের সন্তান বিক্রি করে দিয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়---বিক্রি করেনি, তবে অভাবের তাড়নায় পালক দিয়েছে।
আমার ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ বলেন, এত টাকা কামাই করে কী করলা? কিছুই তো করতে পারলা না! আমার মা বলে---তুই খালি পারস বাজার করতে!
এসব শুনে মন খারাপ হয় না, তা না। মানুষ হিসেবে এবং দুর্বল ঈমানদার হিসেবে মন খারাপ হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে এসব ঘটনা সামনে আসলে মহান আল্লাহর কুদরতি পায়ে হাজার কোটি শুকরিয়ার সেজদা করতে মন চায়, কারণ আমি তো এতটা অভাবে পড়িনি। তিনি তো আমাকে খাওয়াচ্ছেন, পরাচ্ছেন, সকল জরুরত পূরণ করছেন, কারও কাছে হাত পাততে হচ্ছে না।
একদিন শেখ সাদী [কিংবা অন্য কেউ] মসজিদে বসে আছেন। মন খারাপ। তিনি ভাবছেন আল্লাহ তাআলা আমাকে একজোড়া জুতা কেনার অর্থ দেয়নি। মন খারাপ নিয়েই মসজিদ থেকে বের হলেন। দেখেন একটা ভিক্ষুক ভিক্ষা করছে তার কোনো পা নেই, বিকলাঙ্গ। তিনি থমকে গেলেন।
মন খারাপের অবস্থা চলে গেল। মনে মনে আল্লাহর প্রতি একটু অভিমান থাকলেও মুহূর্তেই তা দূর হয়ে গেল। চিন্তা করলেন আল্লাহ আমাকে জুতা কেনার অর্থ না দিলেও তো সুস্থ দুটি পা দিয়েছেন; পৃথিবীতে কত মানুষ আছে যাদের পা নেই! সঙ্গে সঙ্গে মসজিদে গিয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়লেন।
আমাদের প্রত্যেকের মাঝেই অপূর্ণতা আছে। আছে নানাবিধ অপ্রাপ্তি। এসব অপূর্ণতা ও অপ্রাপ্তি যেন আমাদেরকে আল্লাহর শুকরিয়া থেকে গাফেল না করে। তিনি আমাকে যে অবস্থায় রেখেছেন এটাই আমার জন্য মঙ্গলজনক।
আমরা মনে করি আমার চেয়ে অন্য মানুষ বেশি সুখে আছে। মনে করি-- আমার চেয়ে সব মানুষ বেশি টাকা কামায়, বড় বাড়ি করেছে, ভালো জামাই/বউ পেয়েছে, ইত্যাদি। বাস্তবতা ভিন্ন। বাহ্যিক চাকচিক্য দেখে ধোঁকায় পড়ব না। সর্বাবস্থায় দয়াময় রবের শুকরিয়া আদায় করা জরুরি।
দুনিয়াবি বিষয়ে আমার চেয়ে নিম্নস্তরের মানুষের দিকে তাকাব আর আখেরাতের বিষয়ে আমার চেয়ে উচু স্তরের মানুষের দিকে তাকাব। ইসলামের নির্দেশনা এটা। কিন্তু আমরা করি উল্টোটা। প্রায় মানুষ নিজেকে অন্যের চেয়ে বেশি সাধু ও পুণ্যবান মনে করে। এভাবে বলে-- ‘আমি নামায না পড়লেও মিথ্যা কথা বলি না, আর অমুক হাজী সাব নামায পড়লে কি হবে খালি মিথ্যা বলে।’
এমন বদ অভ্যাস ত্যাগ করতে না পারলে দুটি ক্ষতি হবে :
ক. প্রকৃত সুখী হতে পারবেন না।
গ. আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে ব্যর্থ হবেন।
